সোনাদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার অর্ন্তগত কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত একটি দ্বীপ। জীববৈচিত্রময় এ দ্বীপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য অন্যতম পর্যটন স্থান। সাগর গর্ভে অবস্থিত এটি মূলত প্যারাদ্বীপ নামে পরিচিত। এখানকার ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকূলীয় বনভূমি, সাগরে গাঢ় নীল পানি, কেয়া বন, লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রকারের সামুদ্রিক পাখি পর্যটকদের মনে দোলা দেয়।
প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটি কক্সবাজার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে এবং মহেশখালীর মূল ভূখন্ড থেকে একটি খাল দ্বারা বিচ্ছিন্ন। বালুময় দ্বীপটি প্যারাবন বোষ্টিত নানা প্রজাতির জলচর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে সবসময়। শুটকি মাছের জন্য বিখ্যাত সোনাদিয়ায় যেতে হলে প্রথমে মহেশখালী যেতে হবে। মহেশখালীর সর্ব দক্ষিণে অবস্তিত গোরকঘাটা বাজার হতে সিএনজি নিয়ে চলে যেতে হবে ২৪ কিলোমিটার দূরের পথ ঘটিভাঙ্গায়। রিজার্ভ ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা নিতে পারে।
সোনাদিয়া পুর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ায় বিভক্ত। ঘটিভাঙ্গা হতে পায়ে হেটে পুর্বপাড়ায় পায়ে হেটে যাওয়া যায়। পায়ে হেটে যাওয়া কষ্টকর এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আর, পুর্বপাড়ার চেয়ে পশ্চিমপাড়া খুবই সুন্দর।প্রতিদিন জোয়ারের সময় পশ্চিম সোনাদিয়া থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত মাত্র একবার একটি ট্রলার ছেড়ে আসে। এই ট্রলারটিই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের তুলে নিয়ে আবার ফিরতি যাত্রা করে। ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা।
ঘটিভাঙ্গা থেকে সোনাদিয়া পশ্চিম পাড়ার উদ্দেশ্যে দিনে শুধু মাত্র একটি বোট যায়। বোট ছাড়ার সময় জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে, সাধারণত সকাল ১০ টা বা ১১ টার দিকে ছাড়ে। ৪০-৫০ মিনিটের মধ্যেই আপনি পৌঁছে যাবেন সোনাদিয়ায়, ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা। বোট থেকে নেমে কাছেই বন বিভাগের একটা বিল্ডিং আছে, ওখানে রেস্ট নিতে পারেন, কিংবা কিছুক্ষণের জন্যে বসে আড্ডা দিতে পারেন পাশের ঝাউবাগানে। এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে চলে যেতে পারেন বীচে, ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই দেখা পাবেন সমুদ্র সৈকতের।
স্পীডবোটে সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার থেকেও সরাসরি স্পিডবোট রিজার্ভ করে সোনাদিয়া দ্বীপে যাওযার ব্যবস্থা রয়েছে। সে জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। যারা ভ্রমণকে অ্যাডভেঞ্চারময় করতে ভালোবাসেন তারা কিছু বাড়তি খরচ করে কক্সবাজার থেকে সরাসরি স্পিডবোটে করে সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে পারেন। এই রুটে গেলে স্পিডবোট/ট্রলার আপনাকে মহেশখালী চ্যানেল পার করিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে সোনাদিয়ার পূর্বপাড়ায় নামিয়ে দিবে কিন্তু আপনি প্যারাবনের ছোট খালের ভেতর দিয়ে নৌকায় করে যাওয়াটা মিস করবেন।
স্পিডবোট বা ট্রলারের মাঝিকে পশ্চিম পাড়ায় যাওয়ার কথা শুরুতেই বলে নিবেন কারন পূর্বপাড়ায় নামলে পশ্চিম পাড়ায় হেঁটে যাওয়াটা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য দৃশ্য, লোকালয়, ঘরবসতি, ক্যাম্পিং এর সবকিছু পশ্চিম পাড়াতেই। সড়কপথে মহেশখালী সরাসরি গাড়িতে করে মহেশখালী যাওয়া যায়। যারা বোটে চড়তে ভয় পান বলে স্থলপথে আসতে চান বা প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে যেতে চান তাদেরকে কক্সবাজার থেকে বা ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে আসার পথে চকরিয়া নামতে হবে। চকরিয়া থেকে জীপ/সিএনজিতে করে বদরখালি এবং তারপর জীপ/সিএনজিতে করে গোরকঘাটা বাজারে যেতে হবে।
পশ্চিম দিকে বালুকাময় সমুদ্র সৈকত রয়েছে যেখানে ঝিনুক ও মুক্তা পাওয়া যায়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে প্রচুর মাছ শুকানো হয় যা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হয়। জীব বৈচিত্রের অপূর সমাহার সোনাদিয়া দ্বীপ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বিদ্যমান থাকার কথা থাকলেও এলাকা প্রভাবশালী ভূমি দস্যুদের কারণে চিংড়ি খামার তৈরীর লক্ষ্যে প্যারাবন ধ্বংসসহ হাজার হাজার রোপিত গাছ কর্তনের কারণে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন বলে পরিবেশবাদীরা সর্বদা প্রতিবাদ মুখর থাকে।সোনাদিয়ায় থাকা-খাওয়ার কোন সুব্যবস্থা নাই। থাকা-খাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সাহয্য নিতে পারেন।আর, যতটুকু সম্ভব সাথে খাবার নিয়ে যেতে পারেন।






Comments
Post a Comment